পিঁপড়ে কবিতার প্রশ্নোত্তর | Pipre Question Answer | Class 6 Bengali | WBBSE | পিঁপড়ে অমিয় চক্রবর্তী

পিঁপড়ে
পিঁপড়ে

পিঁপড়ে কবিতার প্রশ্নোত্তর

পিঁপড়ে
অমিয় চক্রবর্তী

আহা পিঁপড়ে ছোটো পিঁপড়ে ঘুরুক দেখুক থাকুক

কেমন যেন চেনা লাগে ব্যস্ত মধুর চলা-

স্তব্ধ শুধু চলায় কথা বলা-

আলোয় গন্ধে ছুঁয়ে তার ওই ভুবন ভরে রাখুক, 
আহা পিঁপড়ে ছোটো পিঁপড়ে ধুলোর রেণু মাখুক।।

ভয় করে তাই আজ সরিয়ে দিতে
 কাউকে, ওকে চাইনে দুঃখ নিতে।

কে জানে প্রাণ আনল কেন ওর পরিচয় কিছু, 
গাছের তলায় হাওয়ার ভোরে কোথায় চলে নীচু
-আহা পিঁপড়ে ছোটো পিঁপড়ে সেই অতলে ডাকুক।

মাটির বুকে যারাই আছি এই দু-দিনের ঘরে 
তার স্মরণে সবাইকে আজ ঘিরেছে আদরে।।



পিঁপড়েপ্রশ্ন উত্তর

. অমিয় চক্রবর্তী কোথায় অধ্যাপনা করতেন ?

উত্তর :  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যু পলজ্ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন

. তাঁর দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো

উত্তর : তাঁর দুটি কবিতার বইয়ের নাম হলপালাবদলপারাপার

. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো :

. কবির কী দেখেকেমন যেন চেনা লাগেমনে হয়েছে ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায় কবি পিঁপড়ের ব্যস্ত চলাফেরা দেখেকেমন যেন চেনা লাগেমনে করেছেন পিঁপড়ের এই মধুর আর একাগ্র চলাফেরা মানুষের জীবনের পরিশ্রম ব্যস্ততার কথা মনে করিয়ে দেয় তাই কবির কাছে এটি পরিচিত চেনা বলে মনে হয়েছে

.কেমন যেন চেনা লাগে’ – কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায় কেমন যেন চেনা লাগেকথাটির অর্থ হলো কোনো কিছু দেখে বা অনুভব করে মনে হয় যে এটি আগে থেকে জানা বা পরিচিত কবি পিঁপড়ের চলাফেরা দেখে এমনটাই মনে করেছেন, কারণ পিঁপড়ের পরিশ্রম আর ব্যস্ততা আমাদের নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়

. কবি কাউকে দুঃখ দিতে চাননি কেন ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায় কবি কাউকে দুঃখ দিতে চাননি কারণ তিনি জীবনের সব প্রাণীকে ভালোবাসেন পিঁপড়ের মতো ছোট প্রাণীরও জীবন আছে, তাদেরও কষ্ট হয় তাই কবি মনে করেন, কারো কষ্ট দেওয়া উচিত নয় দয়া ভালোবাসা দিয়ে সবার সঙ্গে থাকা উচিত

.কোন অতলে ডাকুক’ – কে কাকে এই ডাক দেয় ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায় কোন অতলে ডাকুক’ – এই বাক্যে ছোট্ট পিঁপড়ে কবিকে এই ডাক দেয় কবি মনে করেন, পিঁপড়ে যেন তার নিজের মতো করে প্রকৃতির গভীরতায় (অতলে) মিশে যায় প্রকৃতি যেন পিঁপড়েকে নিজের মাঝে ডেকে নেয়, কারণ পিঁপড়ের জীবন প্রকৃতির সঙ্গে জড়িত

. কবি আজ প্রাণের কোন পরিচয় পেয়েছেন ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায় কবি আজ পিঁপড়ের জীবনের গুরুত্ব সৌন্দর্যের পরিচয় পেয়েছেন তিনি বুঝেছেন, পিঁপড়ে ছোট হলেও তার পরিশ্রম, একাগ্রতা আর প্রকৃতির সঙ্গে তার মিল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পিঁপড়ের জীবন দেখেই কবি প্রাণের এই বিশেষ পরিচয় অনুভব করেছেন

.দু দিনের ঘরবলতে কী বোঝ ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায়দু দিনের ঘরবলতে মানুষের এই পৃথিবীতে অল্প সময়ের জীবনকে বোঝানো হয়েছে কবি বলতে চেয়েছেন, আমরা সবাই পৃথিবীতে কিছু সময়ের জন্য এসেছি, তাই আমাদের উচিত সবার সঙ্গে ভালোভাবে থাকা এবং ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া

. প্রার্থনা, নির্দেশ, অনুরোধ বোঝাতে বাংলায় ক্রিয়ার শেষেউকযোগ হয় (যেমন এই কবিতায় থাক্ + উক = থাকুক) কবিতা থেকে এমন আরো পাঁচটি শব্দ খুঁজে বের করো

উত্তর :

ঘুর্ + উক = ঘুরুক
দেখ্‌ + উক = দেখুক
রাখ্ + উক = রাখুক
মাখ্ + উক = মাখুক
ডাক্ + উক = ডাকুক

. নীচের সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ পার্থক্য দেখিয়ে প্রত্যেকটি ব্যবহার করে পৃথক পৃথক বাক্য রচনা করো

উত্তর : সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলির অর্থ :

ভরে পূর্ণ হওয়া ।
ভোরে  প্রভাত বা সকাল। 

ঘরে বাড়িতে।
ঘোরে ঘুরে বেড়ায়।

ছুঁয়ে স্পর্শ করে ।
চুঁয়ে ধীরে ধীরে পড়া। 

আনল নিয়ে আসা ।
অনল আগুন।

মধুর  আনন্দদায়ক বা মিষ্টি ।

মেদুর আবেগপূর্ণ বা করুণ।

. পাশের শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দ বেছে নীচের ছকটি সম্পূর্ণ করো

মাটি, পিপীলিকা, যারা, ধুলা

উত্তর :

পিপীলিকা > পিঁপড়ে
ধুলো > ধুলা
মৃত্তিকা > মাটি
যাহারা > যারা




. কবিতা থেকে সর্বনামগুলি খুঁজে বের করে আলাদা আলাদা বাক্যে ব্যবহার করো

উত্তর : কবিতা থেকে সর্বনামগুলি হল :

তার, ওই, কাউকে, ওকে, ওর, যারা, তার, সবাই

. নীচের স্তম্ভদুটি মেলাও :

উত্তর :

বি

স্মরণ

প্রতি

দিন

চেনা

কু

কথা

সু

মধুর

. কবিতা থেকে সমাপিকা অসমাপিকা ক্রিয়াগুলি খুঁজে নীচের খোপে যথাস্থানে বসাও :

উত্তর :

সমাপিকা

অসমাপিকা

ঘুরুক, দেখুক, থাকুক, রাখুক, মাখুক, জানে, আনল, ডাকুক, আছি, ঘিরেছে

লাগে, চলা, বলা, ছুঁয়ে, ভরে, করে, দিতে, নিতে, চলে

. দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো :

মাটির বুকে সবাই আছি এই দু-দিনের ঘরে তার স্মরণে সবাইকে আজ ঘিরেছে আদরে

উত্তর :

) মাটির বুকে সবাই আছি এই দু-দিনের ঘরে
) তার স্মরণে সবাইকে আজ ঘিরেছে আদরে

১০. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

১০. পিঁপড়ের ভাষাহীন চলাচলের মধ্যে বিনিময়ের ভঙ্গিটি কেমন ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায়, পিঁপড়ের ভাষা নেই, কিন্তু তাদের চলাচলে একটি সুন্দর বিনিময়ের ভঙ্গি দেখা যায় তারা পরস্পরের সঙ্গে মিলে কাজ করে, পরিশ্রম ভাগ করে নেয় এবং একে অপরকে সাহায্য করে তাদের এই ভঙ্গি মধুর এবং একতা সহযোগিতার উদাহরণ

১০.মাটির বুকে যারাই আছি এই দুদিনের ঘরে’ – ‘এই দু-দিনের ঘরেবলতে কী বোঝ ? কে সবাইকে কীভাবেএই দু-দিনের ঘরেআদরে ঘিরে রাখে ?

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায় এই দু-দিনের ঘরেবলতে মানুষের অল্প সময়ের জীবনকে বোঝানো হয়েছে কবি বলতে চেয়েছেন, পৃথিবীতে আমাদের জীবন খুবই সাময়িক

পিঁপড়ে তার কাজ, পরিশ্রম, আর বিনিময়ের মধুর ভঙ্গির মাধ্যমে সবাইকে আদরে ঘিরে রাখে এটি আমাদের শেখায়, জীবনের এই ছোট সময়টুকুতে সবাইকে ভালোবাসা সহযোগিতার মাধ্যমে কাছে টেনে নেওয়া উচিত

১০. এই কবিতায় কবির কীরূপ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তা বুঝিয়ে দাও

উত্তর : কবি অমিয় চক্রবর্তীরপিঁপড়েকবিতায়, কবির মনোভাব খুবই ভালোবাসাপূর্ণ, দয়ালু এবং সংবেদনশীল কবি পিঁপড়ের ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তিনি পিঁপড়ের পরিশ্রম, একতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে তার মিলকে মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন কবি আমাদের শেখাতে চান যে, পৃথিবীতে ছোট-বড় সব জীবেরই গুরুত্ব আছে এবং তাদের ভালোবাসা সম্মান করা উচিত কবিতায় মানবজীবনের অল্প সময়ের মূল্য বোঝানোর পাশাপাশি সকলের প্রতি দয়া আদরের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে

১০. বিভিন্ন রকমের পিঁপড়ে এবং তাদের বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস জীবনপ্রণালী সম্বন্ধে তোমার পর্যবেক্ষণগুলি একটি খাতায় লেখো প্রয়োজনে ছবিও আঁকতে পারো

উত্তর : নিজে করো

১০. একটি লাল পিঁপড়ে একটি কালো পিঁপড়ের মধ্যে একটি কাল্পনিক কথোপকথন রচনা করো

উত্তর : লাল পিঁপড়ে কালো পিঁপড়ের মধ্যে কথোপকথন :

লাল পিঁপড়ে : (খাদ্যের টুকরো টেনে নিয়ে যাচ্ছে) আরে কালো ভাই, কোথায় যাচ্ছ ?

কালো পিঁপড়ে : (হেসে) কী আর, খাবার খুঁজতে বেরিয়েছি তুমি কী নিয়ে যাচ্ছ ?-

লাল পিঁপড়ে : একটা মিষ্টির টুকরো পেয়েছি, আমাদের রানীকে দেবো রানী তো খুশি হবে !

কালো পিঁপড়ে : আহা ! তোমরা তো সবসময় মিষ্টি খাও আমরা কিন্তু তেমন পাই না

লাল পিঁপড়ে : (গর্ব করে) আমরা একটু সাহসী, তাই খাবার খুঁজতে দূরে দূরে যাই তুমি কী খুঁজছো ?

কালো পিঁপড়ে : (হালকা হাসি) আমরা যা পাই, তাই খাই ফলের খোসা, গাছের রসসবই চলে তবে তোমাদের মতো এত সাহস আমাদের নেই

লাল পিঁপড়ে : (পরামর্শ দিয়ে) সাহস না থাকলে হবে কী করে ? আমাদের মতো চেষ্টা করো, দেখবে অনেক কিছু পাবে

কালো পিঁপড়ে : (মৃদু হেসে) চেষ্টা করবো তবে তোমাদের মতো মিষ্টি না পেলেও আমরা নিজেদের মতো খুশি

লাল পিঁপড়ে : (মুচকি হেসে) সেটাই তো ভালো যার যা আছে, তাতেই খুশি থাকা উচিত আচ্ছা, কালো ভাই, এবার চলি রানী অপেক্ষা করছে

কালো পিঁপড়ে : (হাসি দিয়ে) ঠিক আছে, যাও আবার দেখা হবে সাবধানে থেকো !

লাল পিঁপড়ে : (বিদায় জানিয়ে) তুমিও ভালো থেকো দেখা হবে আবার

 

Newton Hossain

Newton Hossain, the founder of this blog, is a Lecturer of the English Language and also loves to explain Life science and Geography.

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post